ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল নিচ্ছিল ফের হামলার প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছিল, তখন পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগাম ধারণা ছিল না ইসরায়েলের। বরং দেশটি তখন আরও বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
সূত্রগুলো বলছে, কয়েক দফা আলোচনার পর দুই দেশ এখন সমঝোতার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
একটি ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এমন এক চুক্তির পথে এগোচ্ছেন, যা শুধু যুদ্ধ বন্ধই নয়, বরং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই আলোচনার বিষয়ে ইসরায়েলকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা, হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে হত্যার দাবি
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী—
* ইরান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখবে
* পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার অঙ্গীকার করবে
* আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের কঠোর তদারকি মেনে নেবে
* বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে
* বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে
এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধও প্রত্যাহারের আলোচনা চলছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের মেয়াদ নিয়ে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই মেয়াদ ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হতে পারে।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নিতে পারে বলেও আলোচনা চলছে, যা আগে তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছিল।
প্রাথমিক সমঝোতা হলে আগামীতে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে পারে। সেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি, জ্বালানি রুট এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং বিভিন্ন শর্ত নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এখনো অনিশ্চিত।





