তিন করিডোরের সংযোগস্থলে তিন লাখ পীর — দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ইপিজেড গন্তব্য

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ন, ২৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:১২ পূর্বাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের ৩ লাখ পীর ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে দ্রুতই গুরুত্ব অর্জন করছে। এই অঞ্চলটি দেশের তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক করিডোরকে একসাথে যুক্ত করে—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট। একই সাথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে মাত্র এক ঘণ্টার সড়ক দূরত্ব এ এলাকাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অবস্থানগত সুবিধা

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের সাবেক কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর: সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার দূরত্ব

ঢাকা: তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার দূরত্ব

আরও পড়ুন: যমুনার বালুচরে সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

সিলেট: মাত্র তিন ঘণ্টার পথ

ভারতের আগরতলা: প্রায় এক ঘণ্টার সড়ক দূরত্ব

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সাথে উন্নত ও দ্রুত যোগাযোগ যে কোনো বড় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা ও রপ্তানি-নির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অসাধারণ সুবিধা সৃষ্টি করে।

জমি ও অবকাঠামোর প্রস্তুতি: ইপিজেড স্থাপনের সর্বোত্তম পরিবেশ

এলাকাজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ খালি ভূমি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি খাস জমি। পাশাপাশি স্থানীয়দের আগ্রহের কারণে কৃষিজমি অধিগ্রহণ করাও অত্যন্ত সহজ।

স্থানীয় মানুষজন শিল্পায়নকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত—যা বাংলাদেশের অন্য বহু অঞ্চলে দেখা যায় না।

এই সমন্বয় একে একটি পূর্ণাঙ্গ ইপিজেড (Export Processing Zone) গড়ার জন্য আদর্শ জায়গায় পরিণত করেছে।

ভারী শিল্প ও রপ্তানিমুখী কারখানার জন্য আদর্শ ভিত্তি: আশুগঞ্জ–আখাউড়া করিডোর

এই সম্ভাবনাময় অঞ্চলের চারপাশে অবস্থিত বাংলাদেশের শক্তিশালী শিল্প-অবকাঠামো:

আশুগঞ্জ নদী বন্দর — আমদানি–রপ্তানির দ্রুততম রুট

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন — অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদেশীয় রেল সংযোগ

আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র — জাতীয় গ্রিডের অন্যতম শক্তি কেন্দ্র

তিতাস গ্যাস ফিল্ড — দেশের প্রধান গ্যাস সরবরাহ এলাকা

আরও রয়েছে কসবায় অবস্থিত সালদা, কাশীরামপুর ও তারাপুর গ্যাসক্ষেত্র, যেখানে পর্যাপ্ত কূপ খননের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। শিল্পাঞ্চল গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবহনের সমন্বিত প্রাপ্যতা—এখানে সবই প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আগ্রহ

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী বেশ কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী এই অঞ্চলকে সম্ভাব্য ইপিজেড হিসেবে বিবেচনা করছেন।

কম খরচে জমি, বন্দর–রেল–সড়ক–বিদ্যুৎ–গ্যাসের সন্নিবিষ্ট সুবিধা এবং ভারতের সীমান্তবর্তী অবস্থান এ অঞ্চলে রপ্তানিমুখী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক মডেল ইপিজেড গড়ার সুযোগ

উপযুক্ত পরিকল্পনা, স্বল্প সময়ে কূপ খনন ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন করা গেলে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের এই অঞ্চলটি সহজেই বাংলাদেশের সর্বাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মডেল ইপিজেড হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এটি শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়—ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট তিনটি বিভাগের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি যোগ করবে। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবাণিজ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সংযোগে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করবে।