কুষ্টিয়ায় কথিত পীর হত্যাকাণ্ড: ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও মামলা হয়নি, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পরও রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: হাওরে বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় যুবকের মৃত্যু

গত শনিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘কালান্দার বাবা শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত একটি স্থাপনায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর (৬০)। তিনি ওই দরবার শরিফের প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হামলায় তার তিন অনুসারী আহত হন এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনেও উত্তোলন করা হয়েছে পতাকা, স্কুলঘেঁষে গরুঘর

ঘটনার পরপরই পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম জাহাঙ্গীর আগে শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন। পরে তিনি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০১৮ সালের দিকে নিজ এলাকায় দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেকে ‘সংস্কারপন্থী ইমাম’ হিসেবে পরিচয় দিতেন।

২০২১ সালে একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি আলোচনায় আসেন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটকও করা হয়েছিল।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, পুরোনো একটি ভিডিও পুনরায় ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও জনসমাগম বেশি হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চুর মোল্লা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।