দুই যুগেরও বেশি সময় আগে রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার বিচার আজও শেষ হয়নি। ২০০১ সালের সেই নৃশংস ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আইনি জটিলতা ও আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারায় বিচারিক প্রক্রিয়া থমকে আছে। বিশেষ করে গত চার বছর ধরে মামলাটি আসামিদের 'আত্মপক্ষ সমর্থনের' পর্যায়ে আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলে হতাশা বিরাজ করছে।
২০০১ সালের পহেলা বৈশাখ ভোরে রমনা বটমূলে যখন জাতি নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই বর্বরোচিত হামলায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জনসহ মোট ১০ জন প্রাণ হারান। ঘটনার দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৪ সালে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও বিস্ফোরক মামলার জট এখনো খোলেনি।
আরও পড়ুন: দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক খাদে, নিহত ৭, আহত ৬
বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ মার্চ এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এরপর থেকে দফায় দফায় সময় দিয়েও আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শুরু করা যায়নি। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ দিন ধার্য থাকলেও কারাগারে থাকা আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য মামলায় আটক থাকায় তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে বিচারক তাওহীদা আক্তার আগামী ৯ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতে, পূর্ববর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে মামলাটি গতি পায়নি। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, বর্তমানে মামলাটি রায়ের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: রমনার বটমূলে ভোরের সুরে নতুন বছরকে বরণ
মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন। কারাগারে থাকা ৭ আসামি ছাড়াও ২ জন বর্তমানে জামিনে আছেন এবং আলহাজ্ব মাওলানা মো. তাজউদ্দিন ও হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম নামে দুই আসামি এখনো পলাতক। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের মক্কেলদের এই মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচার হলে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেন।
নিহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই হামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। আইনি দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত রায় ঘোষণার মাধ্যমেই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পেতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।