ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া মেধাবীদের জন্য বার কাউন্সিল পরীক্ষা যেন ‘কঠিন বাস্তবতা’ না হয়: আইনমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া ও বিদেশে লেখাপড়া করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান বার কাউন্সিল পরীক্ষার পদ্ধতি যেন একটি কঠিন বাস্তবতা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য বার কাউন্সিলের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।


আরও পড়ুন: বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস আয়োজিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছয়মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ও দ্বিতীয় পর্বের আগমন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন কিংবা বিদেশে লেখাপড়া করে এসেছেন, তাদের জন্য বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রশ্ন পদ্ধতি বাংলায় হওয়ায় প্রতিকূল বাস্তবতা পার হতে হয়। এই জায়গাটি যুগোপযোগী করা যায় কি-না,  তা বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা ইস্যুতে দিল্লিকে সতর্ক থাকার আহ্বান ঢাকার

তিনি ‘যার নেই কোন গতি, সে করে ওকালতি’—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আইন পেশার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং আইন পেশার মান উন্নয়নে সবার এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


আইনমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, এই কর্মসূচি তাকে এতটাই উৎসাহিত করেছে যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন করে ইন্টার্ন দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। ইন্টার্নরা সংসদ সদস্যদের গবেষণামূলক কাজ করবে, যা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।


অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আধুনিকায়ন ও বসার জায়গার সংকট নিরসনে বাজেটে বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন  বলেও জানান তআইনমন্ত্রী।

আইন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দুই যুগে ১৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ করে আইন কমিশন ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করলেও গৃহীত হয়েছে মাত্র ৮টি। প্রতি বছর ৮-১০ কোটি টাকা জনগণের অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ইনপুট আসছে না। এটা তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। 


অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লাইনাস র্যাগনার উইকস, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া, ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলীসহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২৫ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান ও নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করানো হয়।