কসবায় ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিলেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন

Sanchoy Biswas
সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৪ পূর্বাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া কসবা উপজেলার তিন লাখ পীর এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন বেপজার কাছে। প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে বেপজা গ্রহণ করেছে এবং দেশে-বিদেশে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

এই ইপিজেডের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরাসরি শিল্পকারখানায় আড়াই থেকে তিন লাখ কর্মসংস্থান এবং লজিস্টিকস, সাপ্লাই চেইন, পরিবহন ও আবাসনসহ আনুষঙ্গিক সেবা খাতে আরও দুই থেকে আড়াই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতার তাগিদ

প্রস্তাবিত ইপিজেড এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর এবং সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের পথ। এছাড়া আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নৈকট্য এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অনন্য সুবিধাজনক করে তুলেছে।

প্রস্তাবিত শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি, এগ্রো-প্রসেসিং এবং লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষের বিশাল বাজার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের গার্মেন্টস ও খাদ্যবাজারকে প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আটগ্রাম নালুহাটিতে ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধস, শুকনো মৌসুমেই সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, কসবা ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে প্রথম মেগা ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর, যা পূর্ববাংলাকে "ইস্টার্ন ইকোনমিক পাওয়ারহাউস" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তিনি জানান, ১০০০ থেকে ১৫০০ একর জমিতে বহুমুখী শিল্পাঞ্চল, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার, সৌরবিদ্যুৎ ক্লাস্টার এবং কর্মীদের জন্য স্মার্ট টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের শেনঝেন ইকোনমিক জোন ও ভিয়েতনামের শিল্প করিডরের আদলে কসবায় এই ইপিজেড গড়ে উঠলে তা বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম তৈরি করবে এবং প্রবাসনির্ভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে।