প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার ছয় গ্রাম, কবীর ভূঁইয়ার একটি আবেদনেই নড়ে উঠল মন্ত্রণালয়
আখাউড়া থেকে মাত্র দুই মিনিটের পথ, অথচ প্রশাসনিক কাগজপত্রে ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর। এই অদ্ভুত বৈপরীত্যের মধ্যে বছরের পর বছর দিন কাটিয়েছেন বরিশল, বৈষ্ণবপুর, কোড্ডা, কোড়াবাড়ি, শ্যামনগর ও চান্দি গ্রামের মানুষ। তাঁদের এই দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।
লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ছয়টি গ্রাম নিয়ে ‘বরিশল ইউনিয়ন’ গঠন এবং তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেন। সেই একটি আবেদনেই নড়ে ওঠে প্রশাসনিক চাকা। মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়, জেলা প্রশাসক সদর ইউএনওকে তদন্তের চিঠি দেন এবং অবশেষে বুধবার বিকেলে বরিশল ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বহু প্রতীক্ষিত গণশুনানি। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সেই গণশুনানি পরিণত হয় এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রত্যাশার এক মিলনমেলায়।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতার তাগিদ
বাসিন্দারা জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা—সব কিছুতেই তাঁদের ভরসার জায়গা আখাউড়া। কিন্তু সরকারি কাগজে সদরের অধীনে থাকায় প্রতিটি পদক্ষেপে ঘুরতে হয় এক ঘণ্টা দূরের জেলা সদরে। এই অযৌক্তিক প্রশাসনিক বিভাজনই তাঁদের জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।
কবীর আহমেদ ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, একটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেদিকে কেন্দ্রীভূত, প্রশাসনিক সীমানাও সেদিকে হওয়া উচিত। এই সহজ ন্যায্যতার জন্যই তিনি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এলাকার মানুষের পাশে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: আটগ্রাম নালুহাটিতে ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধস, শুকনো মৌসুমেই সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের
গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ স্থানীয়দের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকাবাসী মনে করছেন, কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার অক্লান্ত প্রচেষ্টার কারণেই এতদিনের উপেক্ষিত দাবিটি আজ প্রশাসনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।





