সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে ২১ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র-গোলাবারুদ জব্দ

Sanchoy Biswas
মো. আব্দুল আহাদ, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ন, ২২ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৪ অপরাহ্ন, ২২ মে ২০২৬
কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২১ জেলে উদ্ধার। ছবিঃ সংগৃহীত
কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২১ জেলে উদ্ধার। ছবিঃ সংগৃহীত

সুন্দরবনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পৃথক ২টি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা শ্যামনগর ও কয়রার ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ ও ২১ জিম্মি জেলে উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: ৮০ শতাংশ রোগীর ভরসা শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল

খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহিনে প্রবেশ করলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।

প্রেস রিলিজে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে সপ্তম বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা মোট ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: সাভারে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত দেশ টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যান, আটক ৪

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জিম্মিকৃত জেলেদের নিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানাধীন আন্দারমানিকের টোটা, কেওড়াতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ মে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উক্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। অতঃপর আভিযানিক দল আত্মরক্ষার নিমিত্তে পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গহিনে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ডাকাতদের নিকট জিম্মি থাকা ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।