রপ্তানি কার্গো নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি: ঢাকায় EDD পুনর্বহাল, সিলেটে দ্বিতীয় EDS চালু

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ন, ২৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৫ অপরাহ্ন, ২৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ধারাবাহিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী (UK-bound) রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে আবারও Explosive Detection Dog (EDD) পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমোদন পুনর্বহাল হয়েছে।

এছাড়া সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় Explosive Detection System (EDS) চালু হওয়ায় রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং কার্যক্রমের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী সিটির সাড়ে ১২শ পরিচ্ছন্ন কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার প্রদান

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুই উদ্যোগ বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে এবং ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো পরিবহণে নতুন গতি আনবে।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি কার্গো পাঠানোর লক্ষ্যে ২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 3rd Country EU Aviation Security Validated Regulated Agent (RA3) Validation অর্জন করে। এর পর থেকে EDS, X-ray, ETD এবং EDD—এই চার ধরনের পদ্ধতিতে কার্গো স্ক্রিনিং পরিচালিত হয়ে আসছিল।

আরও পড়ুন: শেরপুরে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের Department for Transport (DfT) সরাসরি UK-গামী কার্গোর ক্ষেত্রে EDD ব্যবহারের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরে বেবিচকের কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রচেষ্টা, DfT ও EU বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে আবারও EDD অনুমোদন পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে।

এর ফলে এখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে EDS, X-ray ও ETD-এর পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গভাবে EDD পদ্ধতিও ব্যবহার করা যাবে। এতে কার্গো স্ক্রিনিং আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, EDD পুনর্বহালের ফলে যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই আরও নির্ভরযোগ্য হবে। এতে অতিরিক্ত পুনঃপরীক্ষা বা বিলম্বের ঝুঁকি কমবে এবং সরাসরি কার্গো পরিবহণ সক্ষমতা বাড়বে।

ফলে রপ্তানিকারকরা সময় ও ব্যয়—উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে নতুন নতুন এয়ারলাইনস ACC3 Validation অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোতে সরাসরি কার্গো পরিবহণে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে RA3 Validation অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি কার্গো কার্যক্রম শুরু করে। যদিও কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম স্থগিত ছিল, তবে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে আবার নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু হয়েছে।

সিলেট বিমানবন্দরে আগে থেকেই EDS, X-ray ও ETD পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং কার্যক্রম চলছিল। সম্প্রতি দ্বিতীয় EDS চালু হওয়ায় বিমানবন্দরটির কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে কার্গো প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাড়তি চাপ মোকাবিলা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে বৃহৎ পরিসরে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উন্নয়ন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।