মুক্তির পর আইভীর বাড়ির সামনে সিসিটিভি, নিরাপত্তা জোরদার পুলিশের
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তির পর তার দেওভোগের পৈতৃক বাড়ি ‘চুনকা কুটির’ এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ। বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক এই মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি বা তার অনুসারীরা জড়িত হচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগসংক্রান্ত ১২টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর প্রায় ১৩ মাস কারাভোগ শেষে বুধবার (৩ জুন) রাতে মুক্তি পান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় তার পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছান। তার বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাড়ির সামনেও রাতভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নারী শ্রমিককে ধর্ষণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আইভীর বাড়ি ফেরার রাতেই পুলিশের তত্ত্বাবধানে বাড়ির সামনে ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সাবেক মেয়র হিসেবে আইভীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি বা তার সমর্থকরা নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জামিনে মুক্ত অবস্থায় আইভী স্বাভাবিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। তবে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে তারেক আল মেহেদী জানান, এটি শুধু আইভীর বাড়িকে কেন্দ্র করে নয়। নারায়ণগঞ্জকে আরও নিরাপদ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে আইভীর মুক্তির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ঘনিষ্ঠজনরা তাকে দেখতে বাড়িতে যেতে শুরু করেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে প্রথমবার নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর ২০১১ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৬ ও ২০২২ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অন্যান্য সিটি মেয়রদের সঙ্গে তাকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে।





