জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে ঐক্যের আহ্বান: এমপি মঞ্জুরুল করিম রনি
জুলাই ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরে ‘গৌরবের জুলাই ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি জাহিদুল হাসান
মঙ্গলবার (২১জুলাই) দুপুরে পিটিআই অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই-যোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির সহধর্মিনী তাপসী তন্ময় চৌধুরী। বিএনপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন ও মিশফাত আরা মাইশার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহরিয়ার নাজির, শহীদ শাকিল পারভেজের পিতা বেলায়েত হোসেন, গুম হওয়া ফারুক হোসেন টিটুর কন্যা রোজামনি, ফারহাদ বিন ফয়েজ প্রবাল, রোহানুজ্জামান শুক্কুর ও মাহমুদ হাসান রাজুসহ অনেকে।
আরও পড়ুন: সিংড়ায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়; এটি দেশের মানুষের গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে অতীতের বিভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
বক্তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আন্দোলনের সময় যারা পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের সর্বাত্মক উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ সময় ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনরুত্থানের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা এখনো প্রাসঙ্গিক। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দোসররা যাতে আর কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করতে হবে।
আলোচনা শেষে জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা দিনগুলোর ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া ‘রক্তে লেখা মুক্তি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক পুতুলনাচ ও নাটিকা পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।





