অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব: আটাব নির্বাচন স্থগিত করল এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর আসন্ন নির্বাচন স্থগিত করেছে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড। প্রশাসকের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর অবৈধভাবে বোর্ড গঠন, ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন জালিয়াতি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডের স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির চালচিত্র

আরও পড়ুন: সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ডের তদন্ত ও শুনানিতে আটাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান অসঙ্গতিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

মেয়াদোত্তীর্ণ প্রশাসকের অবৈধ সিদ্ধান্ত: প্রশাসকের আইনগত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সম্পূর্ণ অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নির্বাচন বোর্ড এবং আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

ভোটার তালিকায় ভুয়া ও মৃত ব্যক্তি: প্রাথমিক ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তালিকায় বিপুলসংখ্যক ভুয়া ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়াও মৃত ব্যক্তিদের ভোটার বানানো হয়েছে।

লাইসেন্সবিহীন ট্রাভেল এজেন্সিকে ভোটার করা: সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বেশ কিছু ট্রাভেল এজেন্সিকে ভোটার তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।

আপিল শুনানিতে নজিরবিহীন জালিয়াতি: আপিল বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তিন সদস্যের উপস্থিতিতে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, মাত্র দুইজন সদস্যের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। অথচ পরবর্তীতে রায়ের কপিতে তিনজনেরই স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে।

ব্যাকডেটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষর: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডের কর্মকর্তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে পূর্ববর্তী তারিখ (ব্যাকডেট) ব্যবহার করে নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যা সরাসরি জালিয়াতি ও সরকারি পদের অপব্যবহারের শামিল।

কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও দায়িত্বহীনতা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আটাব প্রশাসক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও চরম দায়িত্বহীনতা ছিল। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতেই শুরু থেকেই এই নির্বাচনী তামাশা সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

চূড়ান্ত শুনানির পর এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড মনে করে, এই কলুষিত ও ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বোর্ড আটাব নির্বাচন স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

এই স্থগিতাদেশের ফলে সাধারণ আটাব সদস্যদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, দায়ী কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ভোটাররা।