নিজের জন্মস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিজ জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.) মাজার সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ সমাহিত করা হয়।
১৯৩৯ সালের ১৫ জুলাই মাশহাদে জন্ম নেওয়া খামেনি মৃত্যুর পরও নিজ শহরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।
আরও পড়ুন: মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন
দাফন অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তার মেজো ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন না।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। টানা ৩৭ বছর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি।
আরও পড়ুন: ইরানে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ, নতুন হামলার অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে খামেনি ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর এ পদে দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর আগে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক অতিক্রম করে ইমাম রেজা (আ.) মাজারের দিকে নেওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরিহিত আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাকে শোকাহত লাখো মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির প্রতিকৃতি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শেষযাত্রায় অংশ নেন।
খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। পুরো শোক অনুষ্ঠানে তার চার ছেলের মধ্যে তিনজন—মোস্তফা খামেনি, মাসুদ খামেনি এবং মেইসাম খামেনি উপস্থিত ছিলেন। শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং চিকিৎসাধীন থাকায় মোজতবা খামেনি তার পিতার শোক অনুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সূত্র : রয়টার্স





