ইরানে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ, নতুন হামলার অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্র

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, ১০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, ১০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ ঘটনায় নিজেদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামনে আরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহর শহর এবং পার্শ্ববর্তী চোগাদাক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক শহরেও আরও তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন

তবে এসব ঘটনার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত কয়েক ঘণ্টায় তারা ইরানের ভেতরে কোনো সামরিক হামলা চালায়নি।

ইরানের সংবাদসংস্থা মেহর নিউজ বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করলেও এর কারণ, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি। একই সঙ্গে এর আগে বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের যে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটিও পরে প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন: চীনের জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২৮

এদিকে বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে জানান, শহরে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে হয়েছে। তিনি জানান, শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক সদর দপ্তরে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে ইরান থেকে এসব খবর প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও তাকে অবহিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রাখা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির অন্যতম ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি। তার ভাষায়, ভবিষ্যতের জন্য নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।

একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফায়ও সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ওই হামলায় কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এদিকে ইরান চায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো তাদের উপকূলঘেঁষা নৌপথ ব্যবহার করুক। অন্যদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করেই বর্তমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করতে আগ্রহী হলেও, ইরান প্রণালির ওপর নিজেদের কৌশলগত প্রভাব কমাতে অনিচ্ছুক।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই সেই সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়নি। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ও প্রত্যাহার করেছে, যা দেশটির অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।