আজীবন বিএনপি করে মরতে চান আওয়ামী লীগ নেতা

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৯:০৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আজীবন বিএনপি করে মরতে চান বলে ঘোষণা দিলেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ দুলু।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় রায়পুরা উপজেলা প্রেসক্লাবে স্থানীয়  সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে এইচএসসি পরীক্ষার দুটি কেন্দ্রে ভূল প্রশ্নপত্র, ৬ শিক্ষক প্রত্যাহার

মতবিনিময় করা আওয়ামী লীগের এই নেতা নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য এবং রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রায়পুরার এমপি রাজু সাহেব (আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য) জোর কইরা আমাকে ফেল করাইছে এবং হয়রানি করেছে। আমাকে নির্বাচন অফিসে আটকিয়ে রেখেছে, অনেক হয়রানি হইছি। আমি কিন্তু কোনো দল করি নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলাম।

আরও পড়ুন: ফেনী চেম্বার নির্বাচনে বিজয়ী সাব্বির-জুয়েলকে সংবর্ধনা

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একসময় ছাত্রদল করতাম। ৮১ সাল থেকে ছাত্রদল করতে গিয়ে আমি যখন চেয়ারম্যান হইলাম, তখন যে দল ক্ষমতায় যখন আসছে, সেই দলের পাশে আমি ব্যালেন্স করে চলে আসছি। কিন্তু অরিজিনালি আমি বিএনপি ছোটবেলা থেকে করছি। আমার এলাকাতে এই যে আমার ভাইয়েরা আছেন, এরা সবাই বিএনপির লোক। আমি আবার আমার ঘরে (বিএনপি) ফিরে আসছি। তাই আজকে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আবার নতুন করে বিএনপিতে পুরোভাবে যোগদান করলাম। তিনি আরও বলেন,  বিএনপি করেছিলাম, বিএনপিতে এসেছি এবং বাকি জীবন বিএনপি করেই মরতে চাই।

তার এই বক্তব্য ও সাংবাদিক সম্মেলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

তার এই যোগদানে স্থানীয় সমালোচকরা জানান, আলী আহমেদ দুলু, আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতির করতেন। পরে তিনি ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়েছেন নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা। পরে তিনি স্থানীয় সাবেক এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু'র সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।