নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ১৫ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:৪০ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে রবিউল ইসলাম (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তাকে নড়াইল সদর থানার দত্তপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নড়াইল সদর থানাধীন রামচন্দ্রপুর গ্রামে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম (৩০), পিতা আতিয়ার রহমান, সুযোগ পেয়ে শিশুটিকে তার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ বিতর্কে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের বসতঘরের ভেতর কাঁথা দিয়ে মোড়ানো রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন তারা। পরে দ্রুত নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) তোফায়েল আহমেদ ও নড়াইলের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে নড়াইল সদর থানার দত্তপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের গারদখানা থেকে পলাতক আসামি ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও অন্যান্য ব্যক্তিরা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে নিহত শিশুর মরদেহ নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন নৃশংস অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা যায়।