১৩ হাজার টাকা প্রতারণার শিকার
উলিপুরে আরডিআরএসের গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ (RDRS Bangladesh)-এর এক গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই তথ্য ব্যবহার করে একটি প্রতারকচক্র নিজেকে আরডিআরএস অফিস উলিপুর পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আরডিআরএস কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাসিন্দা শিউলি বেগম আরডিআরএসের উলিপুর শাখায় ২ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। আবেদন যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রথমে মাঠকর্মী কমল ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী তার বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করেন। পরদিন আবার শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী ও এরিয়া ম্যানেজার মনোরঞ্জন রায় সরেজমিনে গিয়ে ঋণ আবেদন যাচাই করেন এবং ১৯ জুলাই (রোববার) ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য তাকে শাখা কার্যালয়ে যেতে বলেন।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি জাহিদুল হাসান
ভুক্তভোগীর বলেন, রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মাঠকর্মী কমল ফোন করে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অফিসে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর ০১৩৪৪-২১৭৬০০ নম্বর থেকে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে নিজেকে আরডিআরএস অফিস থেকে বলছেন পরিচয় দেন। তিনি শিউলি বেগমের ঋণের পরিমাণ, সঞ্চয়ের পরিমাণ, তদন্তের তারিখ এবং কোন কর্মকর্তারা তদন্তে গিয়েছিলেন এসব তথ্য হুবহু জানিয়ে দেন।
এরপর ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ২ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে আরও ২ লাখ টাকার মৃত্যু বীমা যুক্ত করতে হবে। ফলে মোট ৪ লাখ টাকার বিপরীতে ৪০ হাজার টাকা সঞ্চয় থাকতে হবে। যেহেতু তার হিসাবে ২৯ হাজার টাকা সঞ্চয় রয়েছে, তাই আরও ১১ হাজার টাকা এবং ফরম ও অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ২ হাজার টাকা, অর্থাৎ মোট ১৩ হাজার টাকা দ্রুত পাঠাতে বলেন।
আরও পড়ুন: সিংড়ায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
শিউলি বেগম জানান, ফোনে দেওয়া সব তথ্য তার ঋণ আবেদন ও হিসাবের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি সত্য মনে করে ১৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে ঋণের জন্য শাখা কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানালে মাঠকর্মী কমল ও শাখা ব্যবস্থাপক জানান, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
এ বিষয়ে আরডিআরএসের মাঠকর্মী কমল বলেন, ঘটনাটি সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতারকচক্র কীভাবে এত বিস্তারিত তথ্য পেল, সেটি তদন্তের বিষয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত তথ্য কাউকে দিইনি।
শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী বলেন, আমি দুই দিন আগে গ্রাহকের বাড়িতে তদন্তে গিয়েছিলাম। অফিস থেকে কোনো গ্রাহকের তথ্য বাইরে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। যে নম্বর থেকে ফোন করে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের অফিসের কারও নয়।
এরিয়া ম্যানেজার মনোরঞ্জন রায় বলেন, আমি ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী গ্রাহকের বাড়িতে তদন্তে গিয়েছিলাম। আলোচনা শেষে তাকে ২ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রতারণার ঘটনায় গ্রহকের তথ্য যদি ফাস হয়ে থাকে তাহলে আমাদের এখানে অনলাইন থেকেই হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিউলি বেগম মাঠকর্মী কমল, শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী এবং এরিয়া ম্যানেজার মনোরঞ্জন রায়ের নাম উল্লেখ করে উলিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমল কিশোর ঘোষ জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনায় গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে প্রতারকদের হাতে পৌঁছেছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে আরডিআরএসের তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





