ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই

Sadek Ali
মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, ধর্মপাশা প্রতিনিধ
প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৪ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা- মধ্যনগর সড়কটি বিগত ৪ বছর যাবৎ বেহাল দশা দেখার কেউ নেই। ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত সংস্কারের অভাবে

১০কিলোমিটার পাকা সড়ক সম্পূর্ণটি  ভাঙ্গাচুরা। রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। আবার কোথাও পাশ দিয়ে সড়ক ধসে গেছে। ৪ বছর যাবৎ সড়কটি সংস্কার না করায় ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের দুই লাখ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপাশা- মধ্যনগর পাকা সড়কটির ‍দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। এই সড়কের ধর্মপাশা -গাছতলা অংশের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। এই ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটারই ভাঙ্গাচুরা। সড়কটি আগে সুনামগঞ্জ সওজের অধীনে ছিল। পরে ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে এ উপজেলার যাবতীয় কার্যক্রম নেত্রকোনা সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, সড়কটি ভাঙ্গাচুরা থাকায় ধর্মপাশা সদর, সেলবরষ,পাইকরাটি, মধ্যনগর, চামরদানী, বংশীকুণ্ডা উত্তর ও বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরমে । গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, ছোট-বড় গর্তের জন্য সড়ক দিয়ে বিভিন্ন রকমের যানবাহন হেলেদুলে চলাচল করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় সড়কটি দিন দিন সরু হয়ে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে সাংবাদিকের বাসায় দূর্ধর্ষ চুরি

সম্প্রতি সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকসহ ১০-১৫ জন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত থাকায় যানবাহন চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই কিছু না কিছু যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে।

সেলবরষ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেনিয়ার খান পাঠান  বলেন, ধর্মপাশা থেকে গাছতলা বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কটির গত ৪ বছর ধরে কোন সংস্কার করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোন নজর নেই এতে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।

পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ধর্মপাশা- মধ্যনগর পাকা সড়কটির ২০ কিলোমিটার সড়কের ১০ কিলোমিটারই ভাঙ্গাচুরা।সড়কটি ভেঙে সরু হয়ে যাওয়ায় দিন দিন দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত বছর ২০২৫ ইং সনের আগষ্ট মাসের দিকে হাজার হাজার জনতা ঘোষণা দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে, এতে করে গণমাধ্যম কর্মীরা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পএিকায় সংবাদ পরিবেশন করায় প্রশাসনের টনক নড়ে এবং নেএকোনা জেলার সড়ক ও জনপদ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তার প্রতিনিধি উপসহকারী প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে মানববন্ধনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসে ২০২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে অঙ্গীকার করার প্রেক্ষিতে মানববন্ধনকারী হাজার হাজার জনতা তাদের পরবর্তী কর্মসূচি থেকে বিরত হন এবং নেএকোনা সওজ কতৃপক্ষ রাস্তার বিভিন্ন খানা খন্দে কিছু ইট ভাঙ্গা দিয়ে প্রাথমিক সংস্কারের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটে নেয়। চলতি বছরে প্রথম থেকে প্রতিনিয়ত ভারিবৃষ্টি হওয়ার কারণে ছোট - বড় যানবাহন চলাচল ও টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকদের বড় - বড় বাস ও ব্যাবসায়িদের ভারি ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি বর্তমানে অকেজো ও বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। জনসাধারণ পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও অসুবিধা হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। 

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ধর্মপাশা-গাছতলা সড়কটি উপজেলার প্রধান সড়ক। এটি দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি কথা বলেছি।

সওজ নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ সালেহীন বলেন, ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কটির দরপত্র ইতিমধ্যেই

আহ্বান করা হয়েছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই সড়কের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।