খুদে বিজ্ঞানীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৩ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও মনোযোগী ভূমিকার কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে আনন্দময় ও সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

রোববার (১৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার ঢাকা জেলা পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে এ বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: আদ-দ্বীন হাসপাতালের অন্য শাখা চালু রাখতে বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের জরাজীর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং শিক্ষকদের নিবেদিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি পিরোজপুরের ইন্দুরকানি, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, ঝালকাঠির রাজাপুর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, দিনাজপুর, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুরবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে অবহেলার কারণে বহু স্কুলের অবকাঠামো আজ বিধ্বস্ত। কিন্তু শত কষ্টের মাঝেও আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ থামিয়ে রাখেনি। শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মনোযোগী ভূমিকা পালন করছেন।”

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: মির্জা ফখরুল

একটি বিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না; হয় সে জিতবে, না হলে সে শিখবে।” এই দর্শন ধারণ করে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ, ব্যক্তিগত দক্ষতা, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। তবেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে প্রায় ১২ হাজার টিমের ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৪ হাজার শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করা হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে স্কাউট, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, বিতর্ক, আবৃত্তি, খেলাধুলা ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।”

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, একটি কঠিন সময়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ‘সুরভী’ অনলাইন বিজ্ঞান মেলা, শিল্পকলা প্রতিযোগিতা এবং উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেই সফল মডেলকে অনুসরণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প ও স্টার্টআপ ধারণা উপস্থাপন করেন। অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করেন।