প্রথম দিনেই উপচে পড়া ভিড় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৭ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। উদ্বোধনের পর প্রথম দিনেই জাদুঘর ঘিরে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত ৯০০টি টিকিট অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে ফিরে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকেই জাদুঘরের সামনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার, বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের নিয়ে অসংখ্য মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস জানতে এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাদুঘরে ভিড় করেন।

আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

দর্শনার্থীদের কয়েকজন জানান, জাতীয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে উদ্বোধনের দিনই সীমিত পরিসরে হলেও সাধারণ মানুষের জন্য জাদুঘর খুলে দেওয়া হলে ভালো হতো। তাদের ভাষ্য, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক মানুষ সেদিন প্রবেশ করতে না পেরে হতাশ হয়েছেন। কেউ কেউ প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা পুনর্বিবেচনারও দাবি জানান।

রামপুরা থেকে আসা দর্শনার্থী কামাল আহমেদ বলেন, “জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি কাছ থেকে দেখতে এসেছি। অনেক মানুষ দূর থেকে খরচ করে এসেছেন। উদ্বোধনের দিন সীমিত সংখ্যায় প্রবেশের সুযোগ দিলে ভালো হতো।”

আরও পড়ুন: ন্যাম ফ্ল্যাটে বহিষ্কৃত জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জনকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সকাল ১১টা, দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টা—এই তিনটি স্লটে ৩০০ জন করে দর্শনার্থী জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকিট অনলাইন ও কাউন্টার—উভয় মাধ্যমেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে আগাম টিকিট সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে সেই সময়ের আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত করতেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত সামগ্রীসহ নানা স্মারক প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন এটি শুধু শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ শুরু হয়।