৩৬ ঘণ্টা পর বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৩ পূর্বাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের (৩৮) মরদেহ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় আগুনে পুড়ে মারা গেলো ৫ গরু

নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।

এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুলসহ তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: নিজ দলের কেউ অপরাধে জড়ালেও ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী

আহত অপর দুজন হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদেরও কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আসাদুলের মৃত্যু হয়।

আসাদুলের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে রোববার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসানসহ বিজিবির কর্মকর্তারা এবং বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে আসাদুল হকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ১০টার দিকে বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়। পরে বিএসএফ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আসাদুলের মরদেহ ফেরত দেয়।