আশুলিয়ার ধামসোনায় বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে তৃণমূলে ক্ষোভ

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত আলহাজ্ব আব্দুল গফুর মিয়া এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তার দাবি, তিনি বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী।

সম্প্রতি বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বাবু ধামসোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল গফুর মিয়াকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ, দোকানিকে জরিমানা

এরপর থেকেই প্রার্থী নির্বাচন ও ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তাদের অভিযোগ, ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেওয়া হয়নি। ফলে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পরও নির্বাচনে দলের অবস্থান কতটা একক থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকা জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু হানিফ বলেন, তিনিও ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই একজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ, দোকানিকে জরিমানা

ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদ (ডা. দুলাল) প্রার্থী ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তিনি অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হবে, তা তিনি আগে জানতেন না।

ডা. আসাদউল্লাহ বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলাম। কিন্তু সেখানে যে প্রার্থী ঘোষণা হবে, সেটা আমি জানতাম না। পরে সবাই আমাকে প্রশ্ন করেছেন, আপনি সাধারণ সম্পাদক হয়ে জানেন না, এটা কীভাবে হয়?’

তিনি বলেন, ধামসোনা ইউনিয়নের নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন। তাই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ করা উচিত। যারা দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলেন, তাদের মতামত নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

নিজে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ডা. আসাদউল্লাহ বলেন, দলের নেতাকর্মীরা চাইলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে তিনি আব্দুল গফুর মিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, অতীতে দলের কঠিন সময়ে তিনি বিএনপির হয়ে মাঠে ছিলেন, আর আব্দুল গফুর মিয়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন।

অন্যদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডল দলীয় প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেবের ক্ষমতা আছে, তিনি একজনের নাম ঘোষণা করেছেন। তার ভালো লেগেছে, দিয়েছেন। অসুবিধা কী? তিনি তো বলেননি যে আর কেউ নির্বাচন করতে পারবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকে নির্বাচন করতে পারেন।’

দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত আলহাজ্ব আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, ‘আমি বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। কে কী বলল, সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমার কোনো গ্রুপ নেই। আমি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী।’

প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে থাকবেন কি না এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন কি না, তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।

এ বিষয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বাবুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।