রাত নামলেই স্থল শামুকের দখলে লক্ষ্মীপুর, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের কয়েকটি এলাকায় হঠাৎ করেই স্থল শামুকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দিনের বেলায় তেমন চোখে না পড়লেও সন্ধ্যা নামার পর শত শত শামুক বাড়ির আঙিনা, দেয়াল, গাছপালা ও আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা জিটু রাণী দাস, স্বপ্না রাণী, অজানা দাস, বিজলী দাস ও কেশব চন্দ্র দাস জানান, পৌর শহরের শিঠা ডাক্তার বাড়ি, মনষা বাড়ি, দুর্গা বাড়ি, কালী বাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে রাত হলেই অসংখ্য স্থল শামুকের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। গাছের পাতা, দেয়াল, উঠোন ও সড়কে ছড়িয়ে পড়া এসব শামুক চলাচলের সময় আঠালো স্রাব রেখে যায়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই শামুকের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। শুরুতে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা গেলেও বর্তমানে প্রায় প্রতি রাতেই শত শত শামুক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শামুকের আঠালো লালা হাতে বা পায়ে লাগলে চুলকানি, অস্বস্তি এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সন্ধ্যার পর শিশুদের বাইরে খেলতে দিতে ভয় পাচ্ছেন অনেক অভিভাবক।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল ৪ যানবাহন
শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, কৃষিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাড়ির আঙিনায় লাগানো শসা, শিম, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি ও ঔষধি গাছের কচি পাতা রাতারাতি খেয়ে ফেলছে এসব শামুক। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র চাষিরা।
বারাকাহ্ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আহসান হাবীব বলেন, সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে শামুকের আঠালো স্রাবের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি, চুলকানি কিংবা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শামুক সরাসরি স্পর্শ না করা এবং সংস্পর্শে এলে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত-পা ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, এটি এক ধরনের ক্ষতিকর স্থল শামুক, যা দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং গাছের কচি পাতা ও লতা খেয়ে ফসলের ক্ষতি করে। তিনি বলেন, নিয়মিত শামুক সংগ্রহ করে ধ্বংস করা, ডিম নষ্ট করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করলে এর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি ডিমের খোসা বা কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করেও আংশিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা যেতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থল শামুকের বিস্তার আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে।





