বান্দরবানে বন্যাদুর্গত ১২২ পরিবারকে উদ্ধার করেছে বিজিবি
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার অভিযানে জেলা সদরের পার্শ্ববর্তী ক্রাইক্ষ্যংপাড়া এলাকার ১২২টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ ও অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ১৫৩ সিনিয়র অফিসারের ওরিয়েন্টেশন, নৈতিক ব্যাংকিংয়ের আহ্বান
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় বান্দরবান জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বহু পরিবার বাস্তুহারা হয়ে যায়।
এ অবস্থায় প্রতিকূল আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও বন্যার তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে শুক্রবার রাত থেকেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে বিজিবি। বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিলের নেতৃত্বে সেক্টর সদর দপ্তরের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন: আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের উপর হামলায় পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের প্রতিবাদ
উদ্ধার হওয়া ১২২টি পরিবারকে শহীদ মোশাররফ বিজিবি স্কুল এবং ক্রাইক্ষ্যংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের মধ্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় বাহিনীটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অন্যতম মানবিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।





