তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

ফরিদপুরে অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

Sadek Ali
আজিজুল হক, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুরেঅ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

স্বজনদের দাবি, ভুল অপারেশনের কারণেই ১৭ বছর বয়সী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আরও পড়ুন: জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক, আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

নিহত আয়েশা আফরিন (১৭) সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে পেটব্যথা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে আয়েশাকে নেওয়া হয়। রাত ৯টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করা হয়।

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি গুঁড়িয়ে লুটপাট ও আগুন

পরিবারের দাবি, অপারেশনের পরপরই আয়েশার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে রাত ৩টার দিকে তাকে শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনটি করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান। ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. বদরুদ্দোজাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।