জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক, আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

Sanchoy Biswas
রিদুয়ান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৬:১২ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্তমান সরকার এ দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। তিনি বলেন, আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।

আজ রোববার খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিন পার্বত্য জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের ত্রাণ বিতরণ ও বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে আজ চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে মহালছড়িতে আসেন প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সাবেক সরকারের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আগের ফ্যাসিস্ট সরকার ভোটের রাজনীতি না করে খুন, গুম, অবিচার, জেল, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়ে দেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দীর্ঘ ১৭ বছর অকার্যকর করে রেখেছিল। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের চিন্তায় ও মননে একটি কথাই ছিল—বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার সরকার সবসময়ই থাকবে। আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে ছিলাম এবং আজীবন থাকব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মন্ত্রিপরিষদ, জেলা প্রশাসন ও দলের পক্ষ থেকে দল-মতনির্বিশেষে সকলেই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আজ দুপুরে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজারে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রয়ের ওএমএস কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি জানান, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা আগামী আগস্ট মাস থেকে দেশব্যাপী শুরু হবে। পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও খাগড়াছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি, নিরাপত্তা ও বন্দিসেবার মানোন্নয়নে একাধিক নির্দেশনা

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খোঁজখবর রাখছেন এবং তারা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, তাদের ন্যূনতম এক মাসের কিস্তি সুদসহ মওকুফ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকার সহায়তা করবে।

সরকারের বিভিন্ন আগাম পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে পার্বত্য তিন জেলায় ১,৩০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার কারণে বহু জানমাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং গবাদিপশুর জন্য বিনামূল্যে খুরা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আজ থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুলভ মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়েছে।

পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রেইনবো জাতি’ গঠনে যে স্বপ্ন দেখছেন, তা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি জেলা হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঞা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফলিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে খাগড়াছড়ি জেলা সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।