গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে বেকারত্বের শঙ্কা
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কারখানাগুলোতে কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের আয় কমছে। একই সঙ্গে কারখানা বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক নেতারা।
শুক্রবার (৩১জুলাই) সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন বিশেষ দূত, শুনলেন শরণার্থীদের সংকট ও প্রত্যাবাসনের দাবি
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম ফরিদ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘন ঘন সংকটে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। কোনো কোনো কারখানায় কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের আয় কমছে। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ডিজেল ও এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে কারখানাগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
আরও পড়ুন: ফেনীর সংঘর্ষ মামলায় রাজধানী থেকে গ্রেফতার বিএনপি নেতা আলমগীর
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন,গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একদিকে শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে তাঁদের আয় ও ওভারটাইম কমে যাচ্ছে।কারখানাগুলোকে ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহার করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি খরচ হচ্ছে।
এই অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক কারখানা লোকসানে পড়ছে উল্লেখ করে ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়বেন। একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হচ্ছে, কিন্তু নতুন করে কারখানা চালু হচ্ছে না। এতে বেকারত্ব বাড়ছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ পোশাকশিল্প থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে ভিয়েতনাম, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে পারে।
ফরিদুল ইসলাম বলেন,গার্মেন্টস শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এই শিল্পে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু শ্রমিকদের ওপর পড়বে না, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতেও পড়বে।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটাপন্ন কারখানাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সহায়তা দিতে হবে।
মানববন্ধনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ রানা সুলতান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনছুর আলী, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. সাগর ইসলাম এবং গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বকুল আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন থেকে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও আয় সুরক্ষা এবং সংকটাপন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।





