আশুলিয়ায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী 'স্যুটার' বাপ্পি, জিম্মি নারী উদ্ধার

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:০৬ পূর্বাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ায় এক নারীকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেছে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী 'স্যুটার' বাপ্পি। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার চৌধুরী মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গ্রামের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

পুলিশ জানায়, সকালে বাপ্পি ও তার কয়েকজন সহযোগী চৌধুরী মার্কেটের একটি ভবনে প্রবেশ করে নারী ম্যানেজার লিমাকে জিম্মি করে। পরে ভবনের একটি অফিসে থাকা লকার খুলতে চাপ দেয় এবং চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভবনের মালিকপক্ষের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাপ্পি জিম্মি নারীকে সামনে রেখে বের হওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সে পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষা ও জিম্মিকে উদ্ধারের লক্ষ্যে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির মধ্যেই জিম্মি নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় বাপ্পি।

আরও পড়ুন: মাদকবিরোধী প্রচারণায় ফুটবল প্রতিযোগিতায় চরশেরপুর ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন

উদ্ধার হওয়া চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের নারী ম্যানেজার লিমা জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করে তার, স্যানিটারি মিস্ত্রি ও গৃহকর্মীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে তাকে অফিসে নিয়ে লকার খুলতে এবং টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের মালিক শরীফ চৌধুরীর কাছে চাঁদা দাবি করা হলেও টাকা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটকে রাখা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। তার দাবি, প্রথমে তিনজন এবং পরে আরও দুজন ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। তিনি শাহীন, বাপ্পি, কামরুল ও ইকবাল নামে চারজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন বলেও জানান।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক শরীফ চৌধুরীর স্ত্রী অভিযোগ করেন, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিন তার স্বামীর কাছে প্রথমে এক কোটি এবং পরে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় কর্মচারীদের জিম্মি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার নারী ম্যানেজারকে সামনে রেখে গুলি চালানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

ঘটনাস্থলের ব্যবসায়ী পারভেজ বলেন, "আমি দোকানে ছিলাম। হঠাৎ দেখি একজন ভবনের ছাদ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। আমরা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।"

স্থানীয় শামসুল আলম বলেন, "পুলিশ ওপরে যাওয়ার পর চার থেকে পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছি। তবে কারও গায়ে গুলি লাগেনি।"

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, ঘটনার আগের রাতেও বাপ্পি ওই ভবনে অবস্থান করেছিল। কোনো কারণে ভবনের লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ভবনের একটি কক্ষে ইয়াবা সেবনের কিছু সরঞ্জামও পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক-উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাপ্পির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে মূলত চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিল। টাকা না পেয়ে নারী ম্যানেজারকে জিম্মি করে। পুলিশের দ্রুত অভিযানে তাকে অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, "কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে, কীভাবে সে পালিয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"