প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল স্বর্ণ-রুপার সন্ধান

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৩ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে স্বর্ণ ও রুপার উচ্চ ঘনত্বের বিরল খনিজভান্ডারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু নমুনায় স্থলভাগের আকরিকের তুলনায়ও বেশি মাত্রায় মূল্যবান এই দুই ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফলে আবিষ্কৃত অঞ্চলটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মূল্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

উইয়ন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও সামুদ্রিক ভূতত্ত্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাংহাই চিয়াও থং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা যৌথ অভিযানে এই খনিজভান্ডারের সন্ধান পান। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি এলাকায় সমুদ্রতলের উত্তপ্ত, খনিজসমৃদ্ধ তরল নির্গমনের অঞ্চলে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩

গবেষকেরা সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির তিনটি বড় খনিজ স্তর শনাক্ত করেছেন। এগুলো মূলত উত্তপ্ত তরল থেকে তৈরি সালফাইডের স্তর। সাধারণত এ ধরনের স্তরে তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি অল্প পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপা থাকে।

তবে এবারের নমুনাগুলোতে স্বর্ণ ও রুপার ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। কিছু নমুনায় প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিকে স্বর্ণের ঘনত্ব সর্বোচ্চ ০.৪৫ ট্রয় আউন্স এবং রুপার ঘনত্ব ৩৬.৩ ট্রয় আউন্স পর্যন্ত পাওয়া গেছে। অন্য কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিতে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫.৪ গ্রাম এবং রুপা ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: মক্কার কাছে হুথিদের ড্রোন হামলা, ভূপাতিত করল সৌদি

গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি জানিয়েছেন, বিশাল এই সমুদ্রতলীয় খনিজ এলাকার ‘অত্যন্ত উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য’ রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, ওই অঞ্চলের বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজভান্ডারগুলোর সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। তবে মজুতের প্রকৃত পরিমাণ ও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের সম্ভাবনা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গত ১০ আগস্ট চীনের শেনজেন থেকে গবেষণা জাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ ১৮ দিনের অভিযান শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। অভিযানের সময় বিশেষ ডুবযান ব্যবহার করে সাতবার সমুদ্রতলে নামেন তারা।

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি পশ্চাৎ-ধনুক অববাহিকায় অনুসন্ধান চালিয়ে গবেষকেরা উত্তপ্ত খনিজসমৃদ্ধ তরল নির্গমনের বিশাল একটি এলাকা শনাক্ত করেন। এসব অঞ্চলকে সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সঞ্চয়ের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়।

সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় গবেষণা জাহাজটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং ফিলিপাইনের উত্তরের জলসীমা দিয়ে চলাচল করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, খনিজের সন্ধান পাওয়া অববাহিকাটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) মধ্যে অবস্থিত। তবে অঞ্চলটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

সমুদ্রের তলদেশ থেকে স্বর্ণ, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের সম্ভাবনা থাকলেও গভীর সমুদ্রের খনন নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং গভীর সমুদ্রের পরিবেশে খনন কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।