হবিগঞ্জ সীমান্তে চোরাকারবারিদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

Sadek Ali
চুনারুঘাট হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতীয় ও বাংলাদেশী  চোরা কারবারিদের গুলিতে নিহত হয়েছে আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চিমটিবিল খাস পাড়া গ্রামের মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া।

সোহাগ মিয়ার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকার কুখ্যাত চোরা কারবরি হিসেবে পরিচিত। 

আরও পড়ুন: ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় জৈন্তাপুরে নারী-শিশুসহ আটক ৮

ইতিমধ্যেই চোরাকারবারি শফিক মিয়া কোটি টাকার মালিক বনে গেছে বলে বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে।

 জানা যায় তার কয়েকটি বাড়ি ও বিভিন্ন পৌর শহরে জমিজমা রয়েছে যার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হবে। এর আগে গত ৩০শে আগস্ট সকালে চোরাই গরু আনতে  ভারতের এক কিলোমিটার ভিতরে  প্রবেশ করেন সোহাগ মিয়া ও তার বড় ভাই রাসেল মিয়া।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, একদিনেই চাকরি পেল ২ হাজার ২৭ তরুণ-তরুণী

এক পর্যায়ে ভারতীয় চোরাকারবারীদের সাথে তাদের বাক বিতন্ডা শুরু হলে ভারতের খাসিয়া চোরাকারবারির একটি দল তাদের উপর ছড়রা গুলি বা সিটা গুলি চালালে গুরুতর আহত হয় সোহাগ মিয়া। তার বড় ভাই রাসেল মিয়া কোন রকমে তাকে টেনে হিঁচড়ে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে আসে, তার সুর চিৎকারে তার চাচা আব্দুল কাদির এগিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে মৃতপ্রায় সোহাগ মিয়াকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহাগ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।

এবিষয়ে কথা হয় সীমান্তের ওপারে  ভারতীয় নাগরিক ও মৃত সোহাগ মিয়া  ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিটন দেববর্মার সাথে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন সোহাগ আমার বন্ধু ছিল দীর্ঘদিন যাবত ভারতের অভ্যন্তরে আসা-যাওয়া করতো এবং ভারত থেকে গরু নিয়ে যেত বাংলাদেশে।  গত ৩০ আগস্ট খাসিয়া চোরাই কারবারিদের সাথে গরুর টাকা পয়সার বাগ বাটোয়ার  নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়, এক পর্যায়ে অগ্র খাসিয়া চেরাই চক্র সোহাগ মিয়া এবং রাসেল মিয়ার উপরে গুলি চালায়। রাসেল মিয়া প্রানে বেঁচে গেলেও গুলির আঘাতে গুরুতর  আহত হয় রাসেল মিয়ার ছোট ভাই সোহাগ মিয়া।

তাকে টেনে হিঁচড়ে বাংলাদেশ সিমান্তে নিয়ে যায় রাসেল মিয়া। পরবর্তীতে বাংলাদেশী বিভিন্ন মিডিয়া জানতে পারি সোহাগ মিয়া মারা গেছে।

সম্প্রতি সীমান্তের গুলিতে নিহত ব্যাক্তি ইতিহাস খুঁজে দেখা যায় বিএসএফ প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু সোহাগ মিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। এর আগে বিএসএফের বুলেট এ নিহত হলেও সোহাগ মিয়া নিহত হয়েছেন ছড়রা গুলিতে,এতে বোঝা যায় বিএসএফের গুলিতে সোহাগ মিয়া নিহত হয়নি। 

এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ সীমান্তে এলাকার বাসিন্দা আবুল মিয়ার সাথে তিনি বলেন আমরা এখানে প্রায় পঞ্চাশ বছর যাবত বসবাস করে আসছি, বিএসএফ আমাদের তেমন কোন ক্ষতি বা কোনো দিন গুলি চালায়নি। আবুল মিয়া বলেন আমরা শুনতে পেরেছি ভারতের অভ্যন্তরে খাশিয়াদের গুলিতে নিহত হয়েছে সোহাগ মিয়া।