বাসায় ডেকে জিম্মি করে অর্থ আদায়

রায়পুরে স্বামী-স্ত্রীসহ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের কয়েকজন সদস্য আটক

Sadek Ali
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪১ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সাদিয়া সুলতানা শারমিন নামে এক নারী, তার স্বামীসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। সর্বশেষ পুরোনো ফ্রিজ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা রায়পুরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কিছুদিন পরপর অবস্থান পরিবর্তন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বাসায় ডেকে নেওয়া হতো। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে, স্ত্রীসহ আহত প্রতিমন্ত্রী

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এর আগেও তাদের কয়েকবার আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে সে সময় ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় ফ্রিজ কেনাবেচা ও মেরামতের সঙ্গে জড়িত এক ব্যবসায়ীকে পুরোনো ফ্রিজ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে হাটু পানিতে ডুবে আছে একাধিক বিদ্যালয় ও কবরস্থান

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাসায় যাওয়ার পর তাকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাদিয়া সুলতানা শারমিনসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রায়পুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আটক ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তারা এর আগে আরও কতজনকে একইভাবে ফাঁদে ফেলেছেন এবং অর্থ আদায় করেছেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।