ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সমাজকর্মীর ভিডিও ভাইরাল

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৭ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, আরেক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামের বাসিন্দা। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট ও বাটইয়া ইউনিয়ন এবং কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আরও পড়ুন: কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর নিয়োগপত্র পেলেন ২০ শিক্ষক

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে ওই পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন তিনি।

মফিজুর রহমানের দাবি, ওই নারী তার পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।

এদিকে, অন্য এক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কথোপকথনে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তাকে নগদে টাকা পরিশোধের কথা বলতে শোনা যায়।

কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।