৬ ঘণ্টারও কম সময়ে ৪ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ১৯ জনের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ন, ২২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৪ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঈদের দ্বিতীয় দিনে দেশের চার জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ছয় ঘণ্টারও কম সময়ে ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টা থেকে রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টার মধ্যে কুমিল্লা, ফেনী, বান্দরবান ও হবিগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লায়। নগরীর পদুয়া বাজার রেল ক্রসিং অতিক্রমের সময় ঢাকামুখী একটি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় যাত্রীবাহী একটি বাস। রাত ৩টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ট্রেনটি পদুয়া বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেন।

এর প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফেনীর মহিপাল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আরও তিনজন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত পাঁচজন।

আরও পড়ুন: মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারে পুনরায় অগ্নিকাণ্ড: আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সড়কের একাংশে কাজ চলায় ধীরগতিতে চলা একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। পরে যানজটের মধ্যে দ্রুতগতির আরেকটি বাস এসে সংঘর্ষ ঘটালে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বান্দরবানের পাহাড়ি সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় পর্যটকবাহী একটি বাস। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও অন্তত ৩০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

পুলিশ জানায়, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও কিশোরসহ চারজন নিহত হন। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেক করার চেষ্টা থেকে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও সহকারী পালিয়ে যায়।

দুর্ঘটনাগুলোর পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।