কর্মগুণে উত্তরাবাসীর আস্থার প্রতীক: যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ন, ১০ মে ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ১০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন চৌকস ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের মো. মহিদুল ইসলাম পিপিএম। বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে উত্তরাবাসীর কাছে তিনি কেবল একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাই নন, বরং অপরাধ দমনে এক আস্থার নাম।

অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান

আরও পড়ুন: পুলিশ পদক প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদকে ভিত্তিহীন বলল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স

উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মহিদুল ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা চিত্রে আমূল পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে উত্তরা এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ নির্মূলে তিনি রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। মাদকের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অভিযানগুলো অপরাধীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল।

ক্লু-লেস মামলার রহস্য উন্মোচন

আরও পড়ুন: স্বতন্ত্র পে স্কেল, ওভার টাইম ও অনারারি পদোন্নতি চায় পুলিশ

পেশাদার জীবনে অসংখ্য আলোচিত ও লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছেন এই কর্মকর্তা। উত্তরার দিয়াবাড়িতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক কিশোরকে গলা কেটে হত্যার ক্লু-লেস মামলার জট খোলা ছিল তার কর্মজীবনের অন্যতম সাফল্য। এ ছাড়া হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং র‍্যাব পরিচয়ে কোটি টাকা ডাকাতি করা চক্রকে আইনের আওতায় এনে তিনি নিজের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন।

সংকটকালীন সাহসী ভূমিকা

শুধু অপরাধ দমনই নয়, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংকটে মহিদুল ইসলাম ছিলেন অগ্রসেনানী।

দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা: মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

উত্তরা স্কয়ার রক্ষা: নাশকতাকারীদের হাত থেকে উত্তরা স্কয়ার বিল্ডিং রক্ষায় তার সুনিপুণ পরিকল্পনা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।

৫ই আগস্ট পরবর্তী ভূমিকা: গত ৫ই আগস্ট পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে উত্তরার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও শিক্ষা

গাইবান্ধার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মো. মহিদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পূর্ব তিমুর এবং ২০১৩-১৪ সালে সুদান দারফুর জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও প্রত্যাশা

ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যাসন্তানের জনক এই কর্মকর্তা তার সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে এবং পুলিশের সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তরার বাসিন্দা ও তার সহকর্মীদের।