বনশ্রী সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬
সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মঈন উদ্দিন চিশতির অঙ্গীকার
আসন্ন বনশ্রী সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন চিশতি ইতোমধ্যে ভোটারদের মাঝে একজন পরিচিত, সৎ, দক্ষ সংগঠক, জনকল্যাণমুখী ব্যক্তিত্ব এবং নেক্সট জেনারেশনের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা, পেশাগত সাফল্য ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে বনশ্রীর বাসিন্দাদের কাছে একটি আস্থার নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সোনাগাজীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া মো. মঈন উদ্দিন চিশতি ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন দক্ষ সংগঠক ও আধুনিক চিন্তার নেতৃত্বে পরিণত করেছে।
আরও পড়ুন: হোসেনি দালান থেকে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল
শিক্ষাজীবন ও পেশাগত দক্ষতা:
শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৯৫ সালে জিডি পাইলট পরীক্ষায় ISSB থেকে স্ক্রিন আউট হওয়ার পর তিনি নতুন লক্ষ্য নিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ম্যানেজমেন্টে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের IBA থেকে LCMC (Leadership, Communication & Management Competency) প্রফেশনাল ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: প্রচার সম্পাদক পদে আবু সাদেক, স্মার্ট ও আধুনিক বনশ্রী গড়ার প্রত্যয়
নিজেকে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে নিতে তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। কর্পোরেট নেতৃত্বের ২৫ বছরের যাত্রায় তিনি ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ও পেশাগত ট্রেনিং সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া বিশ্বখ্যাত নেতৃত্ব প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি ২০২৪ সালে ফ্লোরিডাভিত্তিক Execudemy-এর বাংলাদেশের মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে মনোনীত হন।
পেশাগত জীবন ও কর্পোরেট নেতৃত্ব:
মো. মঈন উদ্দিন চিশতি একজন সফল উদ্যোক্তা ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি নক্ষত্র প্রোপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ভূঁইয়া এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং ভূঁইয়া ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর রয়েছে প্রায় ২৫ বছরের কর্পোরেট নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। কর্মজীবনের দীর্ঘ সময়ে তিনি একটেল, রবি ও একে খান টেলিকমে প্রায় ১৫ বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাটারফ্লাইয়ে কান্ট্রি হেড (সেলস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরবর্তীতে রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিজনেস অপারেশনস প্রধান (BoB) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত ডিজিটাল উদ্যোগগুলো দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় অবদান রাখে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত হয়।
রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশের মাধ্যমে তিনি প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মায়ের উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া দেশের ১৩টি সুগার মিলের ভর্তুকি বিতরণ, কৃষি ভর্তুকি বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে অবদান রাখেন। একসময় দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ফি গ্রহণ কার্যক্রমও রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, যার মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভর্তি ফি গ্রহণ কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততা:
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় একজন সমাজসেবী হিসেবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তিনি সোনাগাজী সমিতি, ঢাকা-এর আজীবন সদস্য। এছাড়াও কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ ক্লাব লিমিটেড (CECL), গুলশান এবং ক্লাব-৯২৯৪, বনানীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের আজীবন সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ২০০৪ সালে তিনি ATAB ( Association of travel agency in Bangladesh) এর এনলিস্টেড মেম্বার ছিলেন।
তিনি বায়তুল জান্নাত মসজিদ, সোনাগাজী, ফেনীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে পরপর দুইবার, মোট ৬ বছর দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।
দেশের মানুষের জীবন ও বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর। বাংলাদেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে ৪৯১টি উপজেলা ভ্রমণ ও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দেশ-বিদেশ ভ্রমণ তাঁর অন্যতম আগ্রহ, যা তাঁকে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন বইপ্রেমী মানুষ; নিয়মিত বই পড়া তাঁর অন্যতম পছন্দ।
সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে তাঁর লক্ষ্য:
সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে তাঁর প্রার্থিতার মূল লক্ষ্য একটি সুন্দর, নিরাপদ, মানবিক ও সহযোগিতামূলক বনশ্রী গড়ে তোলার চেষ্টা। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—
● মানবিক বনশ্রী গঠন:
অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রয়োজনীয় সহায়তাপ্রত্যাশী মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
● স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বৃদ্ধি:
স্বাস্থ্য ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ।
● শিশু ও প্রবীণদের কল্যাণ:
শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ।
● দুর্যোগ ও জরুরি সহায়তা:
যেকোনো সংকটময় সময়ে দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা তৈরি করা।
● সামাজিক ঐক্য ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি:
বনশ্রীর সকল বাসিন্দাকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন তৈরি করা।
বনশ্রী সোসাইটি নির্বাচনে তিনি বাতেন-দুলাল পরিষদকে সমর্থন করে সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মাঝে তিনি নিজেকে একজন নেক্সট জেনারেশনের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন—যেখানে রয়েছে আধুনিক চিন্তা, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, কর্পোরেট নেতৃত্ব ও দীর্ঘ সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মো. মঈন উদ্দিন চিশতির অভিজ্ঞতা, সততা, নেতৃত্ব ও জনকল্যাণের মানসিকতা বনশ্রী সোসাইটির সামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে।





