কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা: মূল টার্গেট ছিলেন বাবু, নেপথ্যে ‘সিএনজি হাফিজ’: ডিবি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৬ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিলেন হাফিজুল ইসলাম বাবু। তাকে হত্যা করতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন হাফিজুর রহমান ওরফে ‘সিএনজি হাফিজ’। তবে হামলার সময় গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী সিএনজি হাফিজকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান আনসার বাহিনীর

ডিবি প্রধান জানান, ইউসুফ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. নাহিদ হাসান, মো. শাফিন আহমেদ, মো. জিয়ারুল মোল্লা, মো. আলী হোসেন, মো. জিহাদ মোল্লা, মো. মাসুম বিল্লাহ ও মো. আবির হাওলাদার।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান ওরফে ‘সিএনজি হাফিজ’কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: টিপকাণ্ডের চার বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক

ডিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে কাফরুল থানার ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোড এলাকায় কয়েকজন অস্ত্রধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ মো. আবির হাওলাদারকে আটক করে কাফরুল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ডিবি প্রধান জানান, মামলার তদন্তে ডিবি ও কাফরুল থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মিরপুর, মাগুরা, শরীয়তপুর ও যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, সিএনজি হাফিজ তার প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য পেশাদার খুনি ভাড়া করেছিলেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেন এবং একাধিকবার বৈঠক করেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের হাতে দুটি পিস্তল তুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমবার অস্ত্র লোড করার সময় একটি মিসফায়ারের ঘটনা ঘটায় পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে নতুন করে পরিকল্পনা করে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং হামলার প্রস্তুতি নেয়।

ডিবি জানায়, অভিযুক্তরা বাবুর অফিসের আশপাশে অবস্থান নিয়ে রেকি করেন। হাফিজের সহযোগীরা এলাকা পর্যবেক্ষণ, পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে সহায়তার দায়িত্বে ছিলেন।

ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অপরিচিত কয়েকজনকে দেখে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান এবং তল্লাশির চেষ্টা করেন। তখন হামলাকারীদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিবি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মূল পরিকল্পনাকারী সিএনজি হাফিজকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।