বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ১২ নারীকে উদ্ধার, আটক ৬

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ন, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:২০ পূর্বাহ্ন, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে বাধ্যতামূলক যৌনবৃত্তি পরিচালনার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট ‘রিলাক জোন বিউটি পার্লার অ্যান্ড সেলুন’ নামে স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ১২ জন ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ৭ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ঘটনার পর ১১ ডিসেম্বর বনানী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা (নং-০৬) রুজু করেছে সিআইডি। আইন অনুযায়ী যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম বা অন্য কোনো নিপীড়নের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি সংগ্রহ, পরিবহন, লুকিয়ে রাখা বা আটক করাই মানবপাচার হিসেবে গণ্য হয়।

আরও পড়ুন: কুর্মিটোলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ, আহত কনস্টেবল

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), মো. রাকিবুল ইসলাম (২৫), গোলাম মোর্শেদ ওরফে সৌমিক (২৬), মো. রাব্বি ইব্রাহীম (২৩), জহিরুল (৩৩) ও শ্যামল কুমার (৪৭)।

এ ছাড়া মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে স্পা সেন্টারের মালিক মো. মোবারক আলী ওরফে সবুজ (৩৬) এবং ভবন মালিক মো. দেলোয়ার হোসেনকে। তারা পলাতক আছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে গড়ে তোলা হয় স্পা সেন্টারটি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্চ বেতনের চাকরি, বিউটি পার্লারে নিরাপদ কাজ, থাকার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুবিধার লোভ দেখিয়ে অল্পবয়স্ক মেয়েদের ঢাকায় আনা হতো।

ঢাকায় এনে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে স্পা সেন্টারের আড়ালে যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো।

উদ্ধারকৃত নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও এসব তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। ভবন মালিক দেলোয়ার হোসেন অবৈধ কাজ চলবে জেনেও ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবপাচার ও যৌন শোষণের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের চক্র সাধারণত গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করে, তাই পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট। অপরাধ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।