নরসিংদীর বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর

Sanchoy Biswas
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৭ অপরাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রমজান মাসে ইফতারে সবচেয়ে প্রচলিত খাবারের নাম খেজুর। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার ফজিলত ও বরকত হাদিস শরীফেও বর্ণিত রয়েছে। এছাড়া খেজুরের পুষ্টিগুণও কম নয়। আর এই সুযোগে নরসিংদীর বিভিন্ন বাজারগুলোতে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরাতন, পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর নতুনভাবে মোড়কজাত করে বিক্রি করছেন দেদারসে। অনেক ক্ষেত্রে আবার এসব পঁচা খেজুরে তেল বা কেমিক্যাল মিশিয়ে চকচকে করে খোলা অবস্থায় বা চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব খেজুর খেলে ফুড পয়জনিংয়ের মতো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রয়েছে।

নরসিংদী, ভেলানগর ও মাধবদীর বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, রোজার মৌসুমে রোজাদারদের পছন্দনীয় পণ্য খেজুর। আর সেই খেজুর ক্রেতাদের কাছে সুলভে বিক্রি করতে দোকানীরা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খেজুরের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ফলের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন মুদি দোকানগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে চকচকে মোড়কে সাজানো এসব বিভিন্ন জাতের খেজুর। ফলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এসব খেজুরগুলোকে বাহারি নাম ব্যবহার করছেন দোকানীরা। কেউবা মরিয়ম, আজওয়া, জিহাদি, ডালা, বস্তা সহ বিভিন্ন নাম দিয়েছেন দোকানীরা। আর এসব খেজুরের মেয়াদ ও নাম সঠিক কি-না তা অধিকাংশ ক্রেতারই রয়েছে অজানা। আমদানিকৃত খেজুরের অধিকাংশ প্যাকেটে মেয়াদের তারিখ ও বিএসটিআই কর্তৃক অনুমোদিত সিল রয়েছে অস্পষ্ট। ফলে পুরাতন ও পঁচা খেজুরের গায়ে তেল বা কেমিক্যাল মিশিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের বোঝার কোনো উপায় নেই আসলে খেজুর পঁচা বা মেয়াদোত্তীর্ণ কি-না। ফলে এক দোকান অন্য দোকানের সাথে এসব খেজুরের দামেরও রয়েছে তফাত। কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই একপ্রকার বিশ্বাস করে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্য খেজুর কিনে একধরনের প্রতারিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাভারে মায়ের জানাজায় রানা

খেজুর কিনতে আসা এক ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা সাধারণ ক্রেতা। বিক্রেতাদের কথা বিশ্বাস করে খেজুর কিনে নিয়ে যাই। ভালো-মন্দ কিভাবে বলবো। মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাই বিক্রেতাদের মুখের কথা বিশ্বাস করে কিনি।

এ বিষয়ে বিক্রেতা বলেন, আমরা রাজধানীর সোয়ারীঘাট থেকে ট্রাকের পর ট্রাক পাইকারি খেজুর কিনে নিয়ে আসি। এসব খেজুর জাহাজে করে বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। আসতে অনেক দিন সময় লাগে। দুই-একটা প্যাকেটের মাল খারাপ থাকতে পারে। তবে আমরা খারাপ মাল বিক্রি করি না।

আরও পড়ুন: স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ফয়সল চৌধুরীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন

অপরদিকে রমজান উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন বাজার মনিটরিং করতে আসলেও বাজারের দোকানীরা আগে থেকেই খবর পেয়ে যান। সে সুবাদে তারা পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর অন্যত্র সরিয়ে বা লুকিয়ে রাখার সুযোগ পান। বাজার মনিটরিং করা শেষ হয়ে প্রশাসনের লোকজন যখন ফিরে যান, তখন আবার দোকানীরা ক্রেতাদের কাছে দেদারসে বিক্রি করেন এসব পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর।