চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার তদন্তের দাবি, শাহবাগে মানববন্ধনে ডা. রফিক
চিকিৎসকদের নিয়ে কটূক্তি, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং স্বাস্থ্যখাতকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছেন সর্বস্তরের চিকিৎসকবৃন্দ। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শনিবার অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংগঠনের শত শত চিকিৎসক অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা, জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। তবে মিথ্যা তথ্য, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, অপমানজনক ভাষা এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জনমনে ঘৃণা তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: নাগরিক সচেতনতায় ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ নামাচ্ছে ডিএসসিসি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গঠনমূলক সমালোচনা আমরা স্বাগত জানাই। স্বাস্থ্যখাতে সমস্যা থাকলে তা নিয়ে আলোচনা হোক, জবাবদিহি হোক, সংস্কার হোক। কিন্তু মিথ্যা তথ্য, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, অপমানজনক ভাষা এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জনমনে ঘৃণা তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি “স্মিয়ার ক্যাম্পেইন” চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এর পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী বা বহিঃশক্তির সুবিধা জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: বকেয়া পৌরকর পরিশোধে ১৫% সারচার্জ মওকুফের সুযোগ দিল ডিএসসিসি
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “২০২৩ সাল পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী একটি দেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশিদের প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিলিয়ন ডলারের সেই ব্যবসায় ধস নেমেছে। তাই পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসকদের সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটি তদন্তের দাবি রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্যখাতকে দুর্বল করা মানে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিকে দুর্বল করা। চিকিৎসক ও রোগীকে প্রতিপক্ষ বানানো যাবে না। চিকিৎসক ও রোগী একই পক্ষের মানুষ। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই—মানুষের জীবন বাঁচানো।”
মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা সাংবাদিক মাসুদ কামালের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘৃণ্য, বিদ্বেষমূলক এবং চিকিৎসক সমাজের জন্য অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। তারা তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে চিকিৎসক সমাজ ও জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকারের কাছে এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান চিকিৎসক নেতারা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা না করেন।
ডা. রেজওয়ান তাহসিন সীমান্তের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএমইউর প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা, বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শফিউদ্দিন, রেডিওলজি ও ইমেজিং সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মিয়া ওয়াহিদুজ্জামান, সোসাইটি অব মেডিসিনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া আল আজিজ, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উপ-প্রকল্প পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. লোহানী তাজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান নোমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. সামী আল হাসান ইমন, বিসিএস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা আসাদুজ্জামান রতন, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল, ডা. মমি আনসারীসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে অবস অ্যান্ড গাইনি সোসাইটি, সোসাইটি অব মেডিসিন, সোসাইটি অব রেডিওলজি, কার্ডিয়াক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইএনটি সোসাইটি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস, সোসাইটি অব সার্জনসসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সোসাইটির সদস্য এবং সর্বস্তরের চিকিৎসকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিরাপদ করা, চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ককে আস্থার ভিত্তিতে শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যখাতকে পরিকল্পিত অপপ্রচার থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।





