বনশ্রীর উন্নয়নের রূপকার এম. এ.বাতেন চৌধুরী

Sadek Ali
গোলাম মোস্তফা মন্টি
প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫০ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেতৃত্ব শুধু একটি পদ নয়, এটি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর কর্মে, দূরদর্শিতায় এবং জনকল্যাণে রেখে যাওয়া অবদানে। রাজধানীর বৃহৎ আবাসিক এলাকা বনশ্রীর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনায় যে কজন ব্যক্তির নাম বারবার উঠে আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম এম. এ. বাতেন চৌধুরী।

সফল শিল্পোদ্যোক্তা, দক্ষ সংগঠক এবং সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এই ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অর্কিড প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পাঁচ ভাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যেমন ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে অবদানের জন্য অর্জন করেছেন জাতীয় স্বীকৃতি।

আরও পড়ুন: নিরাপদ, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বনশ্রী গড়তে ভোট চাইলেন মোহাম্মদ বেলাল হোসেন দুলাল

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং মালিক সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এম. এ. বাতেন চৌধুরী প্রায় ২৫ বছর ধরে সৈয়দপুর জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্বও পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক সংগঠন বিক্রমপুর বন্ধনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

তবে বনশ্রীবাসীর কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি এমন একজন নেতা, যিনি তিনবার বনশ্রী সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে রেখেছেন দৃশ্যমান অবদান।একসময় অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতায় ভোগা বনশ্রী আজ একটি সুপরিচিত ও আধুনিক আবাসিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে এম. এ. বাতেন চৌধুরীর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান, ৫ মামলায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

তাঁর দায়িত্বকালে এভিনিউ সড়কসহ মোট ৪৩টি রাস্তা সিসি ঢালাই করা হয়। পানি সংকট নিরসনে স্থাপন করা হয় ১১টি পানির পাম্প। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রবেশপথে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন গেইট এবং স্থাপন করা হয় সিসি ক্যামেরা।

সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এ-ব্লক থেকে সি-ব্লক এক্সটেনশন পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং করা হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও যাতে অন্ধকারে ডুবে না যায় বনশ্রীর রাস্তা, সে জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল বিকল্প আলোকায়ন ব্যবস্থা।

বনশ্রী সোসাইটির নিজস্ব অফিস নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বে। নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এম. এ. বাতেন চৌধুরীর পরিষদ বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। দিবা ও নৈশ প্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি, টহল গাড়ি সংযোজন এবং নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে বনশ্রীবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করা হয়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কম্পেক্টর গাড়ি এবং ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপন, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম এবং গ্যাস সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের মতে, বনশ্রীর মেইন রোড নির্মাণ ছিল সময়ের অন্যতম সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নানা জটিলতা সত্ত্বেও এই সড়ক নির্মাণের ফলে বনশ্রীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।

এম. এ. বাতেন চৌধুরীর নেতৃত্বে বনশ্রী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকে সোসাইটির নামে ওয়াক্ফভুক্ত করা হয় এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্লকে মসজিদের জন্য জায়গা বরাদ্দ এবং নির্মাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হয়।

কবরস্থানের জন্য জমি বরাদ্দ নিশ্চিত করা, খেলার মাঠের জন্য আলোচনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ এবং করোনা মহামারির সময়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের মতো মানবিক উদ্যোগ তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসে।

বর্তমানে ‘বাতেন–দুলাল পরিষদ’ বনশ্রীর উন্নয়নের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি প্রবেশপথে আধুনিক গেইট ও উন্নত সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও সম্প্রসারণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা উন্নয়ন, বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম।

এছাড়া খালপাড় ও সড়কগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন, অবশিষ্ট সড়ক কার্পেটিং, কবরস্থানের পরিধি বৃদ্ধি, একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রতিষ্ঠা, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা চালু এবং মহিলা ক্লাব গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বনশ্রীবাসীর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

বনশ্রীর উন্নয়ন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এম. এ. বাতেন চৌধুরীর নাম। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আজও অনেকের কাছে আস্থার প্রতীক। বনশ্রীবাসীর একাংশের মতে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আর সেই বিবেচনায় এম. এ. বাতেন চৌধুরী শুধু একজন প্রার্থী নন, বরং বনশ্রীর উন্নয়ন অভিযাত্রার একটি পরিচিত অধ্যায়।