উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২৪ সালে মার্শাল ল জারির পক্ষে পরিস্থিতি তৈরি করতে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা উসকে দিয়ে একটি সংকটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে ‘বড় সমঝোতা’, চলতি সপ্তাহেই শান্তিচুক্তি হতে পারে: ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার পাঠানো ড্রোনগুলো থেকে প্রচারপত্র বা প্রোপাগান্ডা লিফলেট ছড়ানো হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা ইউনের বিরুদ্ধে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেন। তারা আদালতে যুক্তি দেন, ড্রোন অভিযান জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এবং যুদ্ধাবস্থার মতো পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা ছিল।

আরও পড়ুন: ইরানে মার্কিন হামলা স্থগিত, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক মুখপাত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ড্রোন-সংক্রান্ত অভিযোগে ইউন সুক ইয়লকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইউন সুক ইয়ল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য, তিনি কখনো ড্রোন পরিচালনার নির্দেশ বা অনুমোদন দেননি। তাদের দাবি, উত্তর কোরিয়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনাবাহী বেলুন পাঠানোর প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সামরিক আইন ঘোষণার কোনো সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ইউনকে আরেকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সে সময় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

সাংবিধানিক আদালতে অভিশংসন বহাল থাকার পর ইউনকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে উদারপন্থি নেতা লি জে মিয়ং দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় জড়িত ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইউন সুক ইয়ল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন।