পল্লবীতে গৃহবধূকে পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

‘ভইরা দে’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড রাসেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Any Akter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৭ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে ৬০ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, বাড়ি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাসেল, ইব্রাহিম, শাহীন, নশাদ ও অমিতসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আছিয়া (৬০)।

এজাহারে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পল্লবীর সেকশন-১২, ব্লক-ই, পূর্ব কুর্মিটোলা তোতা মিয়ার বস্তি এলাকায় তার বসতবাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১১ নম্বর রাবেদা ক্যাম্প এলাকায়ও তার একটি বাড়ি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রাজধানীর ৫ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত রাসেলকে স্থানীয়ভাবে কথিত ‘ভইরা দে’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আশিককে ওই গ্রুপের প্রধান/নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তার অনুসারী পরিচয়ে রাসেলসহ অন্যরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ বিকেলে রাসেল, ইব্রাহিম, শাহীন, নশাদ ও অমিতসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আছিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে রাবেদা ক্যাম্প এলাকার বাড়ি জবরদখল এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা ওয়াসায় বিক্ষোভ, কর্মকর্তা প্রত্যাহার ও পদোন্নতির দাবি

এরপর একই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় দলবদ্ধ হয়ে ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে চাঁদার টাকা দাবি করেন। আছিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল পিস্তল বের করে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় তার সহযোগীরা গৃহবধূকে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ফেলে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পল্লবী ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কথিত ‘ভইরা দে’ গ্রুপের নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। অভিযোগে গ্রুপটির সঙ্গে রাসেলের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি আশিকের নেতৃত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, গ্রুপটির সাংগঠনিক কাঠামো এবং আশিক-রাসেলের প্রকৃত ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পল্লবী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।