মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে: রয়টার্স
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাকে ঢাকা ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলো কোনো যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুললে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সৌদি আরব ইতোমধ্যে ঢাকাকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কখন এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা জানায়নি সূত্রটি।
চলতি মাসে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা চুক্তি’তে সই করে। ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে করা এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আরও পড়ুন: ইরান ইস্যুতে নজর, ৯২ ডলারে স্থির বিশ্ববাজারে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
তুরস্ক জানিয়েছে, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে করা এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতার কথাও উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য তা বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
এতদিন বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সরাসরি কোনো একটি পক্ষ না নিয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়ার মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হলে ভারত, চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তার মতে, এতে এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সরাসরি ছিন্ন হবে না। তবে কোনো একটি সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্পর্শকাতর সময়ে এই আমন্ত্রণ এসেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখার চেষ্টা থাকলেও বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েন রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন।
নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও ঢাকা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এর আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।





