শিশু রামিসা হত্যায় দ্রুত চার্জশিট ও বিচার

কান্না থামছে না স্বজনদের, প্রতিবাদে বিক্ষোভ সারাদেশে

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩২ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে পৈশাচিক কায়দায় শিশু রামিসা ধর্ষণের পর হত্যা প্রতিবাদে সারাদেশেই বিক্ষোভ করেছে জনতা। নিষ্ঠুরভাবে শিশুটি হারিয়ে পিতা-মাতা সহ-স্বজনরা কান্নায় নির্বাক। এদিকে শিশু রামিশা হত্যার দ্রুত অভিযোগপত্র ও বিচারের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা লুকাতেই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সোহেল রানাকে গতকাল বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতে জবানবন্দি দেয় সোহেল। সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য তাকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক আসামি স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: ইয়াবা সেবন করে রামিসার ওপর নির্যাতন চালায় ঘাতক সোহেল

এই ঘটনার পর শিশুটির বাবা বলছেন, “আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।”

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান বলেন, দুই জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন, সোহেল তার জবানবন্দিতে তার বর্ণনা দিয়েছেন এবং ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দুই জনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত শিশুটি। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ, আদালতে আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তি

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে শিশুটির মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।