জলাবদ্ধতায় নাকাল পটুয়াখালী শহর, দ্রুত পদক্ষেপ চান বাসিন্দারা

Sanchoy Biswas
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৯ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে পটুয়াখালী শহর। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও ড্রেনে পলি জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ভোগ নিরসনে পৌর প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস।

আরও পড়ুন: সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি, পালিয়ে গেল দুইজন

টানা এই ভারী বৃষ্টির কারণে শহরের বহু বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। শহরের বাসিন্দা পার্থ জানান, "রাত থেকেই বাসার উঠান ও নিচতলায় পানি উঠে গেছে। অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় আমাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অজ্ঞাত কারণে আমাদের এলাকার ড্রেনটি এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। তার ওপর ড্রেনে পলি জমে থাকায় বৃষ্টি হলেই আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ি।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই এই দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা নিহত

এদিকে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় রিকশাচালক মো. কবির মোল্লা জানান, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় তাঁর আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনমজুর মো. মালেক সরদারও জানান, কাজ না থাকায় পরিবারের খাবার জোগাড় করাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শহরের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দ্রুত ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি এখন পটুয়াখালীবাসীর।