কানে তুলা, হাতে থালা; শব্দদূষণের বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষকের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

Sanchoy Biswas
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৭ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কানে তুলা, হাতে স্টিলের থালা ও চামচ। ব্যস্ত সড়কে থালা পিটিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এক কলেজ শিক্ষক। কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়, তাঁর এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ ছিল ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণের বিরুদ্ধে। নীরব প্রশাসন ও জনসচেতনতার অভাবের প্রতিবাদ জানাতেই এমন অভিনব কর্মসূচি পালন করেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী কলেজের প্রভাষক মো. নুরুজ্জামান।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে তিনি নালিতাবাড়ী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, আহত বৃদ্ধা

প্রভাষক মো. নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে শব্দদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত গ্রাম, এমনকি পাহাড়ি বনাঞ্চলেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। শব্দদূষণের কারণে মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বনের পাখি ও অন্যান্য প্রাণীও স্বাভাবিক পরিবেশ হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। অথচ দিন-রাত যানবাহনের হর্ন, উচ্চ শব্দের মাইক ও ডিজে সাউন্ড সিস্টেমের কারণে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষসহ সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। শহর, বন্দর ও গ্রাম—সব জায়গায় গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: নান্দাইলে হতদরিদ্র গৃহহীন ৩৬ পরিবার পেল মাথা গোঁজার ঠাঁই ‘স্বপ্নবাড়ি’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি থালা বাজিয়ে প্রতীকীভাবে বোঝাতে চেয়েছি, শব্দদূষণ মানুষের মস্তিষ্ক ও কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে এখনই শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও ডিজে সাউন্ড বাজানোর কারণে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অসুস্থ ও বয়স্করা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই ওই শিক্ষক এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই শব্দদূষণ রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, ‘শব্দদূষণ অবশ্যই সবার জন্য ক্ষতিকর। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’