দেশের একমাত্র তেল শোধনাগারে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছে

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৯ পূর্বাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কাঁচামালের ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ হয়ে গেছে—এমন খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে এটি লো-ফিড বা সীমিত পরিসরে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: দেশের বাজারে আবারও সোনা ও রুপার দাম বাড়ল

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের জন্য নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলের চালান সময়মতো না পৌঁছানোর কারণে উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের জাহাজ পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় এই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

আরও পড়ুন: এপেক্স ক্লাবস অব বাংলাদেশের ওরিয়েন্টেশন ও বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠিত

যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা স্বল্পতা তৈরি হলেও তা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও জানান, দেশের মোট ডিজেল চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ করা হয়, যা বিকল্প আমদানির মাধ্যমে সহজেই পূরণ করা সম্ভব। বর্তমানে শোধনাগারের চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে এবং বাকি দুটি ইউনিট সচল রয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে থাকে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের মোট চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন আংশিক কমিয়ে কৌশলগতভাবে মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।