দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

Sanchoy Biswas
মো. সাবিত বিন নাছিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৫:৫০ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) আগামী ১২ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ এর তফসিল ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্বাচন কমিশন। 

২৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে চাকসুর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করছে এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দীন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন এবং চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ.কে.এম আরিফুল হক সিদ্দিকী সহ নির্বাচনী কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন: ডাকসু: জমজমাট প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। এবং খসড়া ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণের শেষ তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত করা হয়েছে। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হবে ১৪ই সেপ্টেম্বর। এবং মনোনয়ন পত্র বিতরণ ও জমাদানের শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এবং জমাকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। 

পরবর্তীতে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। প্রার্থীদের বিষয়ে আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এরপর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

সর্বশেষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ এর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ই অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবং একই দিনে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরই গণনা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

চাকসুর তফসিল ঘোষণার সময় এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করি সুন্দর একটি নির্বাচন আমরা উপহার দিতে পারব।

এ সময় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, আমরা এই তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন দিতে বদ্ধপরিকর। কোন কারণে কোন অজুহাতে চাকসু নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের বানচাল পাঁয়তারা হবে না। আমরা শিক্ষার্থীরা একসাথে একটি গণতান্ত্রিক ধারা তৈরি করতে চাই। 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর সংঘর্ষ ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই নির্বাচন বন্ধ ছিল। চাকসু নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবিদাওয়া ও সরব কর্মসূচি দিতে দেখা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতেই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন তাদের মূল লক্ষ্য।