বার্মিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রকল্পে সাফল্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় ইউনেস্কো
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য পরিচালিত বার্মিজ ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সাফল্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতা গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে ইউনেস্কো বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান Norihide Furukawa-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানায়।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে বিজমেকার
সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল, অধ্যাপক ড. সাঈদুর রহমান, ড. মো. মনির উদ্দিন, জান্নাতুন নাহার, ইউনেস্কোর কক্সবাজার সাব-অফিসের প্রধান James Russell এবং শিক্ষা বিষয়ক ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার Dhana Ranjan Tripura উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য পরিচালিত বার্মিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: নগর তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধন
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গা শিক্ষকদের বার্মিজ ভাষায় দক্ষ করে তোলা, যাতে তারা মিয়ানমার কারিকুলাম কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারেন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতে মিয়ানমারের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজে পুনঃএকীভূত হওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য একটি কার্যকর শিক্ষা সহায়তা মডেল তৈরি করা হয়েছে।
ইউনেস্কো বাংলাদেশের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে Center for Development and Co-operation (CODEC)। কারিগরি অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে Institute of Modern Languages, University of Dhaka। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) এবং কক্সবাজার শিক্ষা সেক্টর প্রকল্পটিকে কৌশলগত সহায়তা দিয়েছে।
অধ্যাপক ড. সাঈদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কারিগরি দল পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) প্রণয়ন, প্রশিক্ষণের গুণগত মান তদারকি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ২ হাজার ২২১ জন রোহিঙ্গা শিক্ষক সফলভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর ফলে শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাষা শিক্ষা ও মিয়ানমার কারিকুলাম বাস্তবায়নের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউনেস্কো প্রতিনিধিরা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বার্মিজ ভাষা শিক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মানবিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





