ছাত্রলীগ নেতৃত্ব থেকে সাংবাদিক, ফুয়াদ মন্ডল কাণ্ডে বিতর্কে চবিসাস
মো. ফুয়াদ মন্ডল ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখসারির দাপুটে ছাত্রলীগ নেতাদের একজন। তবে তার আরেক পরিচয় সাংবাদিক। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিনিধি হিসেবে একই সঙ্গে কাজ করছেন এনটিভি, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক পূর্বকোণ ও ক্যাম্পাস টাইমসসহ মোট চারটি গণমাধ্যমে। সম্প্রতি ছাত্রলীগের মিছিলসহ অন্যান্য কার্যক্রমে তার সম্মুখসারিতে থাকা একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)-এর ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফুয়াদ মন্ডল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পূর্বেও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় এই সদস্যকে দেখা যেত সংগঠনটির নানা কর্মসূচির সম্মুখসারিতে। এমনকি সাংগঠনিক মিটিংয়েও সবার মাঝের আসন থেকেই জুনিয়রদের নেতৃত্ব দিতেন তিনি। তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। দুজনের একসঙ্গে তোলা ছবিও রয়েছে।
আরও পড়ুন: জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পবিপ্রবির, শুরু ১৯ মার্চ
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী শাখা ছাত্রলীগের গ্রুপ ‘সিএফসি’-তে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই যোগদান করেন মো. ফুয়াদ মন্ডল। তথ্যানুসারে, ছাত্রলীগে নিজ সেশনের শীর্ষ নেতৃত্বের একজন ছিলেন তিনি। যার ফলে তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন দলীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিও ছিল তার জন্য সহজলভ্য।
উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট শাসনামলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দখলদারিত্ব ও প্রভাব বিস্তারে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজনীতির যে ইতিহাস রয়েছে, তাতে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ ও উপগ্রুপগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল সিএফসি। যাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রক্তাক্ত হয়েছে শত শত শিক্ষার্থী, প্রাণ হারিয়েছেন আরও অনেকে।
আরও পড়ুন: রাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে সভাপতি ছাদিক, সম্পাদক সুজা
বিশ্ববিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মো. ফুয়াদ মন্ডল ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকলেও জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি জামায়াত-শিবিরের সমর্থক। আবার সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে তিনি গোপনে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের গুপ্ত সদস্যও হতে পারেন বলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, বিএনপি সরকারের বিরোধিতাসহ জাতীয় নির্বাচনকালীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে একাধিক পোস্ট। এছাড়াও তার নিজ এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি ও তার পরিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী সমর্থক। তার পিতা মো. ইউছুব আলী মন্ডল গাইবান্ধা-২ আসনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর সাহাপাড়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী।
এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মো. ফুয়াদ মন্ডল ছাত্রলীগের সঙ্গে পূর্ব সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে জানান, “এগুলো ছাত্রলীগের চক্রান্ত একপ্রকার। আমি প্রথম বর্ষে কিছুদিন হলে ছিলাম। তখনকার পরিস্থিতি আপনি জানেন কিনা জানি না। আসলে তখন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য ছিল। হলে থাকতে হলে অবশ্যই তাদের প্রোগ্রামে যেতে হতো। সেই হিসেবে দু-একটি প্রোগ্রামে আমি ছিলাম।”
তিনি আরও জানান, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আমি সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলাম।”





